অনলাইন টিউটরিংয়ের (Online Tutoring) সুবিধা এবং অসুবিধা: কীভাবে শুরু করবেন এবং সফল হবেন?

অনলাইন টিউটরিং(Online Tutoring) কি ?

অনলাইন টিউটরিং (Online Tutoring) হলো এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ভিন্ন জায়গা থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে শিক্ষলাভের কাজ চালায়। এটা স্বাধীনতা একটা ভার্চুয়াল ক্লাসরুম যেখানে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান দান করে, বিভিন্ন বিষয়ে পাঠ দানের মাধ্যমে । শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর এবং তাদেরকে শিক্ষাদানের পথে সহায়তা করা হয়।

অনলাইন টিউটরিং (Online Tutoring) এর কিছু উদাহরণ :

  • a) ভিডিও কনফারেন্স – শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পরস্পর অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শিক্ষা লাভের পর্যায় চালাতে পারে।
  • b) চ্যাট বক্স – শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রশ্ন চ্যাট বক্সে লিখে দেয় এবং শিক্ষকরা সেটা তৎক্ষণাৎ উত্তর দেন।
  • c) ইউটিউব ক্লাস – শিক্ষক বা শিক্ষিকারা হোয়াইটবোটে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে, যা ইউটিউব ভিডিওর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছায়।

এছাড়াও অনলাইন ফোরাম অডিও কল ইত্যাদির মাধ্যমে শিক্ষক বা শিক্ষিকারা তাদের জ্ঞান প্রচার করে শিক্ষার্থীদের কাছে।

অনলাইন টিউটোরিয়াল (Online Tutoring) আপনারা কি করে চালু করতে পারেন :

a) আপনাদের দক্ষতা নির্ধারণ করতে হবে –

  • আপনি কোন বিষয় ভাল পারেন?
  • আপনার কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের শেখানোর আগ্রহ আছে?
  • আপনার কোন শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পড়ানো ইচ্ছা আছে?

এ সমস্ত দক্ষতা আপনি নির্ধারণ করতে হবে।

Read More >> সোশ্যাল মিডিয়া দিয়ে অর্থ উপার্জন: ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার থেকে টিকটক ক্রিয়েটর পর্যন্ত।

b) একটি প্ল্যাটফর্ম নির্বাচন করুন –

  • সোশ্যাল মিডিয়া : facebook, instagram, youtube ইত্যাদির মাধ্যমে আপনি শিক্ষা দান করতে পারেন।
  • অনলাইন টিউটরিং প্ল্যাটফর্ম : UdemySkillshare ইত্যাদি প্ল্যাটফর্মে আপনার কোর্স তৈরি করে আপনি বিক্রি করতে পারেন।
  • ভিডিও কনফারেন্স : Zoom, Google meet ইত্যাদি টুল ব্যবহার করে আপনি শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে পারেন।

c) প্রোফাইল তৈরি –

আপনার শিক্ষা,যোগ্যতা যোগাযোগের ব্যবস্থা, বিষয় এগুলি দিয়ে একটি প্রোফাইল বানান। প্রোফাইলে আপনার একটি স্পষ্ট ছবি দিন।

d) কোর্স নির্ধারণ –

আপনি কি কোর্স দেবেন, কোন বিষয়ে কোর্স দেবেন, সিলেবাসের রুটিন কি হবে, কোর্সের উপকরণ তৈরি ইত্যাদি আপনাকে নির্ধারণ করতে হবে।

e) টিউটরিং ফি নির্ধারণ –

আপনি কোন বিষয়ে কত ফ্রী নেবেন সেটি নির্ধারণ করতে হবে এবং অন্য টিউটোরিয়ালদের ফি দেখে আপনাকে নির্ধারণ করতে হবে।

f) শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ –

আপনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন, তাদের ফিডব্যাক দিন এবং তাদের প্রশ্নের উত্তর দিন।

এছাড়াও আপনার দক্ষতা বাড়াতে হবে , ইন্টারনেট সহায়তা জায়গায় আপনাকে ক্লাস নিতে হবে , একটি মাইক্রোফোন থাকলে সুবিধা এবং শান্ত পরিবেশে আপনাকে ক্লাস শুরু করতে হবে।

আসুন জেনেনিন, অনলাইন টিউটোরিয়াল (Online Tutoring) এর কিছু সুবিধা :

  • a) নির্দিষ্ট স্থান – আপনি বাড়িতে বসে অথবা আপনার শান্ত পরিবেশে টিউশন নিতে পারেন।
  • b) বৈচিত্র্যময় কোর্স – আপনি এই অনলাইন টিউটরিং এ বিভিন্ন প্রকার কোর্স এবং বিভিন্ন স্তরের কোর্স পেয়ে যাবেন।
  • c) ব্যক্তিগত মনোযোগ – ছোট গ্রুপ অর্থাৎ ছোট ক্লাসে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান করলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।
  • d) দক্ষতা অনুযায়ী শিক্ষক – শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শিক্ষকদের কাছে এবং বিভিন্ন দক্ষতা অনুযায়ী শিক্ষকদের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।
  • e) খরচ কম- শিক্ষার্থীদের এবং শিক্ষকদের যাতায়াতের খরচ কমে যায়।
  • f) সময় সাশ্রয় – শিক্ষক বা শিক্ষিকাদের অথবা শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময় সাশ্রয় হয়।
  • g) ভয় কাটানো- অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষকর শিক্ষিকাদের প্রশ্ন করতে ভয় পায় কিন্তু অনলাইনে তারা সহজে প্রশ্ন করতে পারে।
  • h) পুনরায় দ্রষ্টব্য – অনলাইন ক্লাস রেকর্ড করে থাকলে শিক্ষার্থীরা সেটি পুনরায় থেকে শিক্ষা লাভ করতে পারে।

এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে পরিচয় হওয়া এবং বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষক- শিক্ষিকাদের কাছ থেকে শিক্ষা লাভের সুযোগ পাওয়া যায়।

এরপর,অনলাইন টিউটরিং (Online Tutoring) এর কিছু অসুবিধা নিম্নরুপ :

  • a) প্রযুক্তিগত সমস্যা – ইন্টারনেট সমস্যা, ডিভাইস সমস্যা, ভিডিও- অডিও সমস্যা ইত্যাদি অনলাইন ক্লাস কে বাধা প্রদান করে।
  • b) যোগাযোগ বাধা – শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সাথে শিক্ষার্থীদের সরাসরি যোগাযোগ না থাকায়, শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো যোগাযোগ করতে পারে না।
  • c) শৃঙ্খল ব্যাহত – অনলাইনে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন ,ফলে ক্লাস রুমের শৃঙ্খল ব্যাহত হয়।
  • d) ধোঁকা দেওয়ার সম্ভাবনা – অনলাইনে অনেক দক্ষতা ইন শিক্ষক বা শিক্ষিকা থাকতে পারে।
  • e) চোখ শরীরের সমস্যা – প্রতিটুকু সময় ধরে কোন ডিভাইসের সামনে থাকলে, শিক্ষার্থীদের চৌকো শরীরে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • f) আগ্রহের অভাব – ক্লাস রুমের মতো পরিবেশ না থাকার কারণে অনেক শিক্ষার্থীদের আগ্রহ নষ্ট হতে পারে।

এছাড়াও আর্থিক সমস্যা, পরীক্ষার অনিয়মিতা ইত্যাদি অনলাইন টিউটরিং (Online Tutoring) এ বাধা প্রদান করে।

অনলাইন টিউটোরিয়াল (Online Tutoring) এ আপনি কি করে সফল হবেন?

  • a) দক্ষতা অর্জন – শিক্ষক বা শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হবে। হলে শিক্ষার্থীরা আপনার দক্ষতার ছোঁয়া পাবে।
  • b) শিক্ষা দান – শিক্ষাদান বলতে, আপনার যতটুকু দক্ষতা আছে ততটাই আপনি শিক্ষার্থীদের দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
  • c) মনোযোগ – আপনাকে মনোযোগ সহিত অনলাইন টিউটোরিং এ শিক্ষাদানের পর্যায় চালিয়ে যেতে হবে।
  • d) উপকরণ – অনলাইন টিউটরিং এ কি কি প্রয়োজনীয় উপকরণ দরকার হবে তা আপনাকে আগে থেকেই সংগ্রহ করে রাখতে হবে।
  • e) ডিভাইস ও ইন্টারনেট – আপনাকে নজর রাখতে হবে আপনার ডিভাইস এবং ইন্টারনেটের যেন কিছু খামতি না থাকে। এবং আপনাকে একটি শান্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে ক্লাস নেওয়ার জন্য ।

এছাড়াও উন্নত দক্ষতা, যোগাযোগ, ফি নির্ধারন ইত্যাদির দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে । তাহলেই আপনি একজন প্রতিষ্ঠিত অনলাইন টিউটর হতে পারবেন।

সমাপ্তি :

অনলাইন টিউটরিং (Online Tutoring) বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র, যা শিক্ষক-শিক্ষিকা বা শিক্ষার্থীদের সহায়তা করে । আপনিও পারেন, একজন শিক্ষক বা শিক্ষিকা হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান করতে অথবা শিক্ষার্থী হলে শিক্ষক বা শিক্ষিকার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে। তাই এই অনলাইন টিউটোরিয়াল এ সবাই যুক্ত হন এবং ভবিষ্যৎকে উজ্জ্বল করে তুলুন ।







 

No comments

Powered by Blogger.